কালিগঞ্জের কৃতি সন্তান আব্দুল হালিম নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে পুলিশ সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান আব্দুল হালিমের পদোন্নতি, পুলিশ সার্জেন্ট হলেন –
ফজলুল হক,কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) কর্মরত বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান মো. আব্দুল হালিম পুলিশ অফিসার থেকে পুলিশ সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন। তাঁর এ অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি, সাতক্ষীরাবাসী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ২০২৬ নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের সদর দপ্তরের পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত বর্ণাঢ্য পদোন্নতি অনুষ্ঠানে এনওয়াইপিডির কমিশনার জেসিকা টিশ তাঁর হাতে নতুন পদমর্যাদার সনদ তুলে দেন।
বিশ্বের অন্যতম দক্ষ ও আধুনিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে পরিচিত এনওয়াইপিডিতে কর্মকর্তাদের যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, নেতৃত্ব, সততা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। কর্মজীবনে মো. আব্দুল হালিম নিষ্ঠা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে সহকর্মী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আস্থা ও প্রশংসা অর্জন করেছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁর দক্ষতাই এ পদোন্নতির অন্যতম ভিত্তি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পদোন্নতির অনুভূতি প্রকাশ করে মো. আব্দুল হালিম বলেন,
“প্রথমত আমি একজন বাঙালি, একজন বাংলাদেশি এবং সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের সন্তান—এ পরিচয়েই আমি গর্বিত। এই অর্জন শুধু আমার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের। আমি আশা করি, আমার এই পথচলা নতুন প্রজন্মের
বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণদের দেশপ্রেম, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত হতে অনুপ্রাণিত করবে।
মো. আব্দুল হালিম সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রতনপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম শওকাত আলী গাজী এবং মাতা রোকেয়া বেগম। তাঁর একমাত্র ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট এ কে আজাদ দোলন।
এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করার পর সরকারি বিএল কলেজ, খুলনায় অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০০৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে এএসএ কলেজ অব এক্সেলেন্স থেকে অপরাধবিজ্ঞান ও বিচার ব্যবস্থা বিষয়ে স্নাতক এবং জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিস, নিউইয়র্ক থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা অর্জন করেন।
তিনি ২০১১ সালে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২০১৫ সালে পুলিশ অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিনের সফল কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে বর্তমানে পুলিশ সার্জেন্ট পদে উন্নীত হলেন।
এদিকে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এক বিবৃতিতে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ক্যাপ্টেন একেএম আলম, সহ-সভাপতি সার্জেন্ট ডিটেকটিভ এরশাদুর সিদ্দিক এবং সাধারণ সম্পাদক ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার বলেন,
এটি শুধু আব্দুল হালিমের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং পুরো বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য গর্বের একটি মাইলফলক।সংগঠনের গণমাধ্যম সমন্বয়কারী সার্জেন্ট জসিম মিয়া বলেন, কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি এই পদোন্নতি অর্জন করেছেন। তাঁর এ সাফল্য আগামী প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে।
কমিউনিটি নেতাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও সাফল্য মূলধারার সমাজে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরও সুদৃঢ় করছে। বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন শাখায় এক হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি-আমেরিকান সদস্য নিষ্ঠা, দক্ষতা ও জনসেবার মাধ্যমে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি মো. আব্দুল হালিম দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, সামাজিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছেন। এছাড়া অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তায় নিয়মিত অবদান রেখে চলেছেন।
বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কভিত্তিক জামাইকা সমন্বিত বাংলাদেশি অফিসার্স নেটওয়ার্ক (জীবন)-এর সহ-সভাপতি এবং সাতক্ষীরা জেলা সমিতি ইউএসএ (নিউইয়র্ক)-এর সম্মানিত উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি নিউইয়র্কে একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিয়েল এস্টেট বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
এদিকে তাঁর পদোন্নতির সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নিজ গ্রাম রতনপুরে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসায় বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে এলাকাবাসী তাঁদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও তাঁর এ গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে গভীর আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন।