• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী প্রদানকারী সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা গ্রেপ্তার স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ৫ আগস্ট কীভাবে আন্দোলনকারীদের কাছে ‘৩৬ জুলাই’ হয়ে উঠল শনির আখড়ায় ১০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ‘বিদেশি অতিথিদের সামনে নাস্তানাবুদ হওয়া আমাকে ব্যথিত করেছে’ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: প্রধানমন্ত্রী সিডনির মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: ইন্দোনেশীয় মুসলিম নারী নূরহায়াতি নিহত, বাংলাদেশি মাহবুবুল হক এখনও লাইফ সাপোর্টে অসুস্থ ইলিয়াস কাঞ্চন, কী হয়েছে তাঁর? দেশে ফিরলেন ১৫ মাস পর এমবাপ্পে কি আসছেন ঢাকায়? যা জানালেন প্রতিমন্ত্রী

দক্ষতা আছে, স্বীকৃতি নেই: এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর?

ফয়সাল আহমেদ :
প্রকাশকাল : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

 

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স।দেশে অসংখ্য দক্ষ কর্মী থাকা সত্ত্বেও তাদের অনেকেই উন্নত দেশগুলোতে অভিজ্ঞ কর্মী (Experienced Worker) হিসেবে চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন না।

হেয়ার ড্রেসার, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি ও রেফ্রিজারেশন মেকানিক, অটোমোবাইল টেকনিশিয়ান, ড্রাইভার, বিউটিশিয়ান, ওয়েল্ডার, টাইলস মিস্ত্রি কিংবা অন্যান্য কারিগরি পেশার অনেক কর্মী ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে, দক্ষতা আছে, কাজের সুনাম আছে; নেই শুধু আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি সনদ ( Certificate)।তাই আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে তারা ব্যর্থ হন।

এমন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় একটি পদক্ষেপ। সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং শ্রম অভিবাসনকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা। মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব শ্রমবাজার, কর্মী কল্যাণ এবং নিয়োগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তবে শ্রমবাজার খুলে দেওয়াই সমস্যার পূর্ণ সমাধান নয়।বর্তমানে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মীদের চাহিদা ব্যাপক।বাংলাদেশে হাজার হাজার কর্মী আছেন যারা বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোতে পারেননি কিন্তু বাস্তব কাজের ক্ষেত্রে তারা অসাধারণ দক্ষ। একজন গ্রাম্য ইলেকট্রিশিয়ান হয়তো শত শত বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ দিয়েছেন, একজন প্লাম্বার বছরের পর বছর জটিল পাইপলাইন স্থাপন করেছেন, একজন হেয়ার ড্রেসার শত শত গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছেন।তবে বিদেশি নিয়োগকর্তার কাছে তার দক্ষতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার একটি জাতীয় দক্ষতা যাচাইকরণ ও সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করতে পারে। একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে বিভিন্ন পেশার কর্মীদের নিবন্ধন করা যেতে পারে। এরপর নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে তাদের দক্ষতা মূল্যায়ন করা যেতে পারে।
যেমন—
কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার বছর,বাস্তব কাজের ভিডিও ও ছবি, গ্রাহকের মতামত ও রেফারেন্স,ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ,পেশাগত দক্ষতার মান যাচাই। ইত্যাদি।
এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে সরকার বা অনুমোদিত সংস্থা ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্কিল পাসপোর্ট ইস্যু করতে পারে, যা QR কোডভিত্তিক হবে এবং আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তারা অনলাইনে যাচাই করতে পারবেন।

বাংলাদেশে ইতোমধ্যে “Recognition of Prior Learning (RPL)” নামে একটি উদ্যোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে কর্মীদের পূর্ব অর্জিত দক্ষতা মূল্যায়ন ও সনদায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।কিন্তু বাস্তবতা হলো,অধিকাংশ কর্মী জানেনই না যে তাদের দক্ষতা মূল্যায়ন ও সনদায়নের এমন কোনো ব্যবস্থা আছে।

তাই বাংলাদেশ সরকারের উচিত, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA), জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ডিজিটাল স্কিল সার্টিফিকেশন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা। সেখানে কর্মীরা নিজেদের নিবন্ধন করবেন। তাদের কাজের ভিডিও, ছবি, পূর্ব অভিজ্ঞতার তথ্য, নিয়োগকর্তার প্রত্যয়নপত্র এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা যাচাই করা যেতে পারে।
যদি একজন প্লাম্বার, ড্রাইভার বা এসি মেকানিক নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হন‌ তবে তাকে QR-কোড সংবলিত একটি ডিজিটাল সার্টিফিকেট প্রদান করা যেতে পারে। বিদেশি নিয়োগকর্তারা অনলাইনে সেই সনদের সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। এতে যেমন জাল সনদের প্রবণতা কমবে, তেমনি বাংলাদেশি কর্মীদের বিশ্বাসযোগ্যতাও বাড়বে। ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর এবং আরও কয়েকটি দেশ দক্ষতা সনদায়ন ব্যবস্থাকে শ্রম রপ্তানির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর যদি শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি দক্ষতা সনদায়নের একটি জাতীয় কর্মসূচির সূচনা ঘটাতে পারে তবে সেটি হবে বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসনের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কারণ একজন দক্ষ কর্মীর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বিদেশ যাওয়ার অনুমতি নয়; তার দক্ষতার স্বীকৃতি। দক্ষতা আছে, অভিজ্ঞতা আছে, কাজ করার মানসিকতা আছে—এখন প্রয়োজন শুধু রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। সেই স্বীকৃতিই হতে পারে বাংলাদেশের আগামী অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার নতুন ভিত্তি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category