অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) লেবার পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ২০২৬ এনএসডব্লিউ লেবার স্টেট কনফারেন্স শনিবার সিডনির ঐতিহাসিক টাউন হলে শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের প্রথম দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো প্রতিনিধি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতা ও কর্মীর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লেবার সদস্য ও প্রতিনিধির সরব উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
দলীয় নীতিনির্ধারণ, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং আগামী রাজ্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশি কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতিতে তাদের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধি, অল্টারনেট ডেলিগেট, কাউন্সিলর এবং কমিউনিটি নেতারা সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে দলীয় নীতিমালা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
প্রথম দিনে প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্সের ভাষণ, শেষ দিনে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ-
সম্মেলনের প্রথম দিনে প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স। তিনি বলেন, আগামী দিনের নিউ সাউথ ওয়েলস গড়ে তুলতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক শিল্পায়নের ওপর লেবার সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে।
প্রিমিয়ার তাঁর বক্তব্যে শিক্ষানবিশ কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং হান্টার অঞ্চলে পুনরায় ট্রেন উৎপাদন শিল্প চালুর পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজ্যের শিল্পখাত আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সম্মেলনের বাইরে ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে কিছু বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই সম্মেলনের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। এ প্রসঙ্গে প্রিমিয়ার মিন্স বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা নতুন নয় এবং লেবার পার্টি জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাবে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ প্রতিনিধিদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংগঠনিক ও নীতিগত প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। এবারের এনএসডব্লিউ লেবার স্টেট কনফারেন্সেও বাংলাদেশি সদস্যদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে, কমিউনিটির নতুন প্রজন্ম ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব মূলধারার রাজনীতিতে আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ানদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখার সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।