পবিত্র হজ পালন করে ফিরে আসা হাজীদের সম্মান জানাতে মিন্টোস্থ অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার ইনক (এএমডব্লিউসি)-এর উদ্যোগে এক আন্তরিক ও আবেগঘন হুজ্জাজ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) মাগরীবের নামাজের পর মিন্টোর এএমডব্লিউসি ইসলামিক সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এই বছর হজ পালনকারী হাজীগণ, সেন্টারের সদস্য বর্গ, পরিবার-পরিজন এবং মুসুল্লিরা অংশ নেন।
সেন্টারের খতিব হাফেজ আব্দুল হাদি তানভীর ‘হজের গুরুত্ব ও প্রতিদান’ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। তিনি বলেন, হজ শুধু একটি ইবাদত নয়; এটি একজন মুসলমানের আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের অনন্য শিক্ষা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল হজ পালন করে ফেরা হাজীদের সম্মাননা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব। সেন্টারের পক্ষ থেকে উপস্থিত হাজী সাহেব ও সাহেবানদের উপহার দেওয়া হয়। একে একে প্রায় অর্ধ শত হাজী তাদের পবিত্র সফরের স্মৃতি, অনুভূতি ও শিক্ষা উপস্থিত সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন।
তারা বলেন, হজের নিয়ত করার পর থেকেই আল্লাহ তাআলা একের পর এক পথ সহজ করে দেন। আর্থিক সামর্থ্য, ভিসা, সফরের প্রস্তুতি কিংবা নানা জটিলতা—যা প্রথমে কঠিন মনে হয়, আন্তরিক নিয়ত ও আল্লাহর ওপর ভরসা থাকলে অনেক সমস্যারই সহজ সমাধান হয়ে যায়। তারা সবাইকে হজের জন্য দেরি না করে নিয়ত করার আহ্বান জানান।
অভিজ্ঞতা শেয়ার করে হাজীরা বলেন, হজের প্রতিটি ধাপে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার প্রয়োজন। তাই যারা ভবিষ্যতে হজে যেতে চান, তাদের এখন থেকেই হজের নিয়ম-কানুন, ফিকহ ও করণীয় বিষয়গুলো ভালোভাবে অধ্যয়ন করার পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেন। তারা বলেন, হজ সম্পর্কে যত বেশি জানা থাকবে, ইবাদত তত সুন্দর ও প্রশান্তির সঙ্গে আদায় করা সম্ভব হবে।
তারা জানান, হজ এমন একটি ইবাদত যা ভাষায় সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা কঠিন। কাবা শরিফ প্রথমবার চোখের সামনে দেখার মুহূর্ত, আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, মুজদালিফার রাত এবং মিনার দিনগুলো জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ও আত্মিক অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
অন্য একজন হাজী বলেন, হজ আমাকে শিখিয়েছে—ধৈর্য, বিনয়, সময়ের মূল্য, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা কীভাবে একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়েও সবাই একই পোশাকে, একই লক্ষ্য নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন—এ দৃশ্য মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের এক অসাধারণ প্রতিচ্ছবি।
যারা আগামী বছরগুলোতে হজে যাওয়ার ইচ্ছা রাখেন, তাদের প্রতি হাজীরা বলেন, আমাদের আন্তরিক পরামর্শ—আজ থেকেই নিয়ত করুন। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। পাশাপাশি হজের মাসআলা-মাসায়েল, নিয়ম-কানুন ও প্রয়োজনীয় দোয়া আগে থেকেই শিখুন, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং ধৈর্যকে নিজের সবচেয়ে বড় সঙ্গী বানান। মনে রাখবেন, আন্তরিক নিয়ত থাকলে আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমতে এমন সব পথ খুলে দেন, যা অনেক সময় আমাদের কল্পনারও বাইরে থাকে।
এএমডব্লিউসির সভাপতি ড. আনিসুল আফসার বলেন, এই সংবর্ধনার উদ্দেশ্য শুধু হাজীদের সম্মান জানানো নয় বরং তাদের অভিজ্ঞতা থেকে পুরো মুসলিম কমিউনিটিকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইসলামিক ও কমিউনিটি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর খান উপস্থিত সকল অতিথি ও স্পন্সরদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে তিনি এএমডব্লিউসি ইসলামিক সেন্টারের উন্নয়ন, ঐক্য ও বরকতের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
মাগরিব ও ইশার নামাজের পর হজযাত্রী, সেন্টারের সদস্য বর্গ, পরিবার-পরিজন এবং মুসুল্লিদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।