অস্ট্রেলিয়ার সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা ওয়াইলি পার্কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন ১৬ বছর বয়সী কিশোরও রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৯ জুলাই) রাত প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটে কর্নেলিয়া স্ট্রিটের একটি আবাসিক সম্পত্তির পেছনে থাকা গ্র্যানি ফ্ল্যাটে।
ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ এনএসডব্লিউ (FRNSW) জানায়, ট্রিপল জিরো (000)-এ একাধিক ফোনকল পাওয়ার পর পাঁচটি ফায়ার ট্রাক ও ২০ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছেই তারা দেখতে পান, গ্র্যানি ফ্ল্যাটটি পুরোপুরি আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে এবং জানালা দিয়ে আগুনের শিখা বের হচ্ছে।
আগুনের তীব্রতার কারণে দমকলকর্মীদের বাড়ির পাশ ও সামনের বাগান দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর গ্র্যানি ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, ওই গ্র্যানি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন ৫২ বছর বয়সী এক পুরুষ, ৪৩ বছর বয়সী এক নারী এবং ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। তবে আনুষ্ঠানিক পরিচয় নিশ্চিত করার আগে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ ও শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলছে।
ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ এনএসডব্লিউ কমিশনার জেরেমি ফিউট্রেল ঘটনাটিকে “চরম মর্মান্তিক” উল্লেখ করে বলেন, এক ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি পুরো সম্প্রদায়ের জন্য গভীর শোকের বিষয়। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বলেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু পরিবার নয়, আশপাশের বাসিন্দা, দমকলকর্মী ও জরুরি সেবাকর্মীদের ওপরও গভীর মানসিক প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও বলেন, “এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি। ঘটনাস্থল নিরাপদ ঘোষণা করা হলে বিশেষজ্ঞ তদন্তকারীরা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।”
এদিকে এনএসডব্লিউ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট শেরিডান ওয়ালডাউ জানান, ঘটনাস্থলকে অপরাধস্থল ঘোষণা করা হয়েছে এবং স্টেট ক্রাইম কমান্ডের আর্সন স্কোয়াড তদন্তে সহায়তা করছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে। আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, বৈদ্যুতিক হিটার বা ই-বাইকের ব্যাটারি কোনোভাবে জড়িত ছিল কি না, তাও তদন্তকারীরা বিবেচনায় নিচ্ছেন। অগ্নিকাণ্ডে গ্র্যানি ফ্ল্যাটটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তদন্তে সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে করোনারের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ এনএসডব্লিউ শীত মৌসুমে বাসাবাড়িতে অগ্নি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বিশেষ করে হিটার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও ব্যাটারিচালিত ডিভাইস ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।