• শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় নতুন উপসর্গ ৮১৮ জনের ভিসা নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের জরুরি বার্তা জুলাই গণ অভ্যুত্থান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাফর ইকবাল আসামি একযোগে ডিএমপির ১২ কর্মকর্তাকে বদলি যে পাঁচ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নতুন সচিব পেল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব – খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী প্রদানকারী সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা গ্রেপ্তার স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ৫ আগস্ট কীভাবে আন্দোলনকারীদের কাছে ‘৩৬ জুলাই’ হয়ে উঠল

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার জয়, সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকাল : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। ম্যাচের ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে হেড করে দলকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। লিভারপুলের এই মিডফিল্ডারের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা।

গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়। ড্যান এনডয়ে গোল করে সমতা ফেরালে ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়।

 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড। ডান দিক থেকে থ্রু বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ব্রিল এম্বোলো। তিনি বল বাড়িয়ে দেন বাঁ দিকে থাকা এনদোয়ের উদ্দেশ্যে। এনদোয়ে শট নিলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেস দুর্দান্ত এক ব্লকে আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন।

অবশ্য গোল হলেও সেটি বৈধ হতো না, কারণ তার আগেই এম্বোলোর অফসাইডের পতাকা তুলেছিলেন লাইন্সম্যান।

কিছুক্ষণ পর আবারও আক্রমণ। বাঁ দিক থেকে ভেসে আসা ক্রস দূরের পোস্টে হেড করেন এনদোয়ে। তবে বাজপাখির মতো ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল আটকে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এরপর বক্সের বাইরে প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে সুইস মিডফিল্ডারের এক জোরালো শট মার্তিনেসের সামনে ড্রপ খেয়ে দিক পাল্টালেও দক্ষতার সঙ্গে তা রুখে দেন এই গোলরক্ষক।

 

আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ৬৭ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় সুইজারল্যান্ড। বাঁ দিকে রদ্রিগেজের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন এনদোয়ে। কোণাকুনি শটে পরাস্ত করেন মার্তিনেসকে। বল দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ালে উল্লাসে মাতে সুইস শিবির।

গোল করার ঠিক ৫ মিনিট পর বড় ধাক্কা খায় সুইজারল্যান্ড। ফাউলের অভিনয় করার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস ফরোয়ার্ড এম্বোলোর। এর আগে ৬৯ মিনিটে রেফারি লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখালেও, ভিএআর রিভিউতে দেখা যায় দুজনের মধ্যে কোনো সংস্পর্শই হয়নি। ফলে ফাউলের অভিনয় করায় শাস্তি পান এম্বোলো।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ডের ওপর আক্রমণের স্টিমরোলার চালায় আর্জেন্টিনা। ৯০ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের ক্রস থেকে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে বল পেয়ে ডান দিকে কাট ইন করে জোরালো শট নেন মেসি। কিন্তু বলটি বিপজ্জনকভাবে বাঁক খেয়ে পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে মেসির কর্নার থেকে বক্সের ভেতর জটলার সৃষ্টি হলে লিসান্দ্রো মার্তিনেস একটি অ্যাক্রোবেটিক কিক নেন। তবে সুইস কিপার কোবেল সহজেই তা লুফে নিলে সমতাতেই শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা।

এর আগে ম্যাচের ৭২তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় সুইজারল্যান্ড। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর চাপ আরও বেড়ে যায় সুইসদের ওপর।

নির্ধারিত সময়ের শেষে রেফারি ৯ মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করলেও সেই সময়েও কোনো দল গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ে একজন বেশি খেলোয়াড়ের সুবিধা কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণের পর শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় তারা। অতিরিক্ত সময়ে করা সেই গোলেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালের টিকিট কেটে নেয় আর্জেন্টিনা।

এই জয়ের মাধ্যমে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল লিওনেল মেসির দল। পুরো ম্যাচে আক্রমণভাগের পাশাপাশি রক্ষণভাগও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দৃঢ়তা দেখিয়েছে। অন্যদিকে সাহসী লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে সুইজারল্যান্ডকে।

সেমিফাইনালে ওঠার পর এখন শেষ চারের লড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের মঞ্চে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইবে আলবিসেলেস্তেরা।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category