• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী প্রদানকারী সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা গ্রেপ্তার স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ৫ আগস্ট কীভাবে আন্দোলনকারীদের কাছে ‘৩৬ জুলাই’ হয়ে উঠল শনির আখড়ায় ১০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ‘বিদেশি অতিথিদের সামনে নাস্তানাবুদ হওয়া আমাকে ব্যথিত করেছে’ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: প্রধানমন্ত্রী সিডনির মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: ইন্দোনেশীয় মুসলিম নারী নূরহায়াতি নিহত, বাংলাদেশি মাহবুবুল হক এখনও লাইফ সাপোর্টে অসুস্থ ইলিয়াস কাঞ্চন, কী হয়েছে তাঁর? দেশে ফিরলেন ১৫ মাস পর এমবাপ্পে কি আসছেন ঢাকায়? যা জানালেন প্রতিমন্ত্রী

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক কারবারে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকাল : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ মাদক ব্যবসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সোমবার বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। জনমত যাচাই, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ এবং সংশোধনী প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

 

সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত বিলে প্রযুক্তিনির্ভর মাদক-সংক্রান্ত অপরাধকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ কেনা, বিক্রি, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, যোগাযোগ, সহায়তা বা অন্য কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

 

এছাড়া, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

আইনে আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার করতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না।

 

এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

 

যদি কোনো অপরাধ আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়, তবে অপরাধীকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

 

আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আদালত বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সাইবার স্পেসের বিভিন্ন রিসোর্স, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট ও ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ, অপসারণ, বাজেয়াপ্ত বা রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করার নির্দেশ দিতে পারবে।

 

সংশোধিত আইনে সাধারণ আদালতের এখতিয়ার বহাল রাখার পাশাপাশি মাদক-প্রবণ এলাকায় পৃথক মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান পুনর্বহাল করা হয়েছে।

 

এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধ, বিশেষ করে সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ দমনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং ডগ স্কোয়াড গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

 

বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category