দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারনে কাজ করছে সরকার – আরিফুল হক চৌধুরী।
ইকবাল আলমগীর ;
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অবদান জাতি সবসময় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদেশে কর্মী পাঠানো নয়, বরং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষ কর্মীর চাহিদা, মর্যাদা এবং আয় সবই বেশি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাশাপাশি দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদেরও নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও পেশাগত জ্ঞান দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রায় ৮৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দ নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং প্রবাসীদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণে নিরলসভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
শ্রমজীবী মানুষের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নের পেছনে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। একটি কারখানা, নির্মাণ প্রকল্প কিংবা কৃষি খামার— সবখানেই শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রম জড়িয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রায় ৪৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই বরাদ্দের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে, যা শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।