• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, তুলে ধরবেন নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা ডিএমপির উত্তরা ও ডিবি রমনা বিভাগে নতুন ডিসি সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে ক্লিনিক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন ডিসির দরবারে অসহায়ের ভিড়, সমাধান নিয়ে ফিরছেন হাসিমুখে ওবায়দুল কাদেরের ‘পার্টনার আমলা’ সাবেক সচিব আমিন উল্লাহ নুরীকে পুনর্বাসিত করল ইউনাইটেড গ্রুপ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাৎ: আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার তাগিদ ‎চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে—পানিসম্পদ মন্ত্রী দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম

পাহাড়ি ঢলে ধসে পড়লো সেতু, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকাল : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পাহাড়ি স্রোতের চাপে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের ব্রিজঘাট সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ায় ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে রাঙ্গামাটির রাজস্থলীসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ছড়া ও নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে প্রবল পাহাড়ি ঢলের আঘাতে ব্রিজঘাট সেতুর একটি বড় অংশ ধসে যায়। ফলে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জরুরি রোগী পরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

এদিকে অতিরিক্ত পানির চাপ সামলাতে না পেরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ধসে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের নিম্নাঞ্চল এবং রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়।

বহু বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে উঁচু স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে ফসলি জমি ও মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বান্দরবান সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, “পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। আমি নিজেও পরিবারসহ পানিবন্দি অবস্থায় আছি। তবে সেতু পুনরুদ্ধার ও দুর্গত মানুষের সহায়তায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং পাহাড়ি ঢল ও তীব্র স্রোতের মধ্যে চলাচল থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category