• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, তুলে ধরবেন নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা ডিএমপির উত্তরা ও ডিবি রমনা বিভাগে নতুন ডিসি সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে ক্লিনিক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন ডিসির দরবারে অসহায়ের ভিড়, সমাধান নিয়ে ফিরছেন হাসিমুখে ওবায়দুল কাদেরের ‘পার্টনার আমলা’ সাবেক সচিব আমিন উল্লাহ নুরীকে পুনর্বাসিত করল ইউনাইটেড গ্রুপ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাৎ: আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার তাগিদ ‎চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে—পানিসম্পদ মন্ত্রী দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম

দুদকের চেয়ারম্যান হতে আবেদন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা চান ব্যারিস্টার এম সরোয়ার

এম এম ওয়াশীম খোকন
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন। গত ৭ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আবেদন জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও দাখিল করেন তিনি। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে দুদকের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এম সরোয়ার এর আগে প্রায় দুই দশক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।

 

বৃহস্পতিবার রাতে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে আবেদন জমার তথ্য জানিয়েছেন এম সরোয়ার হোসেন নিজেই।

 

পোস্টে দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া, প্রার্থীদের পরিচয় প্রকাশ এবং নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি। ক্যাপশনে তিনি লিখেন, পৃথিবীর যে কোনো সভ্য দেশে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও অটোনোমাস পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য লোকদের তালিকা জনগনের নিকট প্রকাশ করা হয়, যাতে করে পাবলিক বিতর্কের মাধ্যমে সঠিক লোকটির হাতে দায়িত্ব অর্পিত হয়। My men যাতে তৈরি না হয়। এছাড়াও পার্লামেন্টারি কমিটিতে এদের বিগত দিনের পারফরম্যান্স সততা ও দক্ষতা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। এগুলো করা হয় জনস্বার্থে, যাতে যে গুরুত্বপূর্ণ পদে যাকে নিয়োগ দেয়া হয় সেই ওই পদের জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যক্তি সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। সিলেকশন প্রক্রিয়াটি হয় অত্যন্ত সততার সাথে অত্যন্ত যোগ্যতার সাথে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে। কোন ওহী নাযিল এর মাধ্যমে নয়।

 

তিনি আরও লিখেছেন, আমরা তো এখন পর্যন্ত জানতে পারলাম না কারা কারা এই পদের জন্য আবেদন করেছে কি তাদের যোগ্যতা কি তাদের সততা কি তাদের নৈতিকতা। জনগণের তো এই সমস্ত তথ্য জানার অধিকার রয়েছে।

‘আমি ধরেই নিয়েছি আমার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এই পদে পদায়ন হবে না। কেননা আমি এই পদের জন্য কোথাও কোন প্রকার তদবির লবিং করব না।’

 

সবশেষ তিনি লিখেছেন, যাইহোক, যাকেই দুদকের চেয়ারম্যান বা কমিশনার করা হোক না কেন, জনগণের জানার অধিকার রয়েছে কোন প্রক্রিয়ায় তাদেরকে সিলেক্ট করা হলো। আশা করব যাদেরকেই দায়িত্ব দেওয়া হোক না কেন, তারা অন্তত যোগ্যতা দক্ষতা সততা সাহসিকতায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন। দুদকের কমিশন যেন কোনোভাবেই ঠুটোঁ জগন্নাথ না হয়, দুদক যেন কোনভাবেই আওয়ামী লীগের মতো লন্ডি সার্ভিস না হয় অর্থাৎ যারা শুধু দলীয় দুর্নীতিবাজদেরকে ক্লিনচিট দিত।

 

চেয়ারম্যান পদে আবেদন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার এম সরোয়ার বলেন, দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে আগ্রহীদের আবেদন ও জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ এবং সুপারিশপ্রাপ্তদের পরিচয় প্রকাশের উদ্যোগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তার ভাষ্য, এতে নিয়োগের আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে জনমত ও সম্ভাব্য বিতর্ক যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

 

তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দুদকের নেতৃত্বে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের বিকল্প নেই। তিনি দাবি করেন, তার চেয়ে যোগ্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে আগের মতোই সহযোগিতা করে যাবেন।

 

ব্যারিষ্টার সরোয়ার তার জীবনবৃত্তান্তে গত ১০ বছরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার বিস্তারিত তুলে ধরেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দুদকে অন্তত ৬৪টি আবেদন দাখিল করেছেন। এ ছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ, দেশের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন, দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিকগুলোতে বহু নিবন্ধ রচনা এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের টিভি চ্যানেলের টকশোতে অংশগ্রহণের বিস্তারিত উল্লেখ করেন।

 

ব্যারিষ্টার এম সরোয়ার সেনাবাহিনীতে ২০ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে পদাতিক রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন। চারটি ভিন্ন পদাতিক ব্যাটালিয়ন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে (এএফডি) স্টাফ ও কমান্ড পদে দায়িত্ব পালন করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্রোহ দমন অভিযানে চার বছরেরও বেশি সময় এবং জাতিসংঘের ইরাক-কুয়েত পর্যবেক্ষণ মিশনে সামরিক কন্টিনজেন্টের সদস্য হিসেবে শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ‘মেডিক্যালি বোর্ডেড আউট’ (এমবিও) হয়ে মেজর পদমর্যাদায় অবসর গ্রহণ করেন। ব্যারিস্টার এম সরোয়ার ১৯৬৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর সদরে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আব্দুল হাকিম হাওলাদার ও মা হালিমা বেগম।

 

তিনি ১৯৮২ সালে পিরোজপুর সরকারি হাইস্কুল থেকে এসএসসি, জেলার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে যশোর বোর্ডে মেধা তালিকায় যষ্ঠ স্থান অর্জন এবং ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি থেকে বিএ পাস করেন।

 

১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে (ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে) সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর (এমএসএস) ডিগ্রি অর্জন। ২০০৬ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন (দ্বিতীয় শ্রেণি)। ২০০৯ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি লন্ডন থেকে পিজিডিএল সম্পন্ন করেন। ২০০৯ সালের জুলাই মাসে লিংকনস ইন থেকে ‘কল টু দ্য বার’ (আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি) লাভ করেন।

 

এর আগে ২০০৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি আইনজীবী (অ্যাডভোকেট) হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০১৩ সালের ১৯ আগষ্ট সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতি লাভ করেন। ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি সুপ্রিম কোর্টে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category