বাংলাদেশের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর
রহমান বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর জোর দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকায় পররাস্ট্র মন্ত্রণালয়ে
এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার কথা জানান।
পররাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক তথ্য বিবরণীতে বলা
হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ (এফওসি) বৈঠকের ফাঁকে আজ সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাজিকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব ইদিবেক কালান্দার। বৈঠকে তাঁরা সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সফররত তাজিকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির মতো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর জোর
দেন এবং তাঁরা উভয়েই বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা মওকুফ,
পর্যটন উন্নয়ন, দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগের
প্রচার ও সুরক্ষা এবং শিল্পখাতে সহযোগিতার
মতো ক্ষেত্রে দ্রুত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদনের ওপর মত দেন।
বর্তমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণকে খুবই
নগণ্য উল্লেখ করে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অব্যক্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বেসরকারি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের আদান-প্রদান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তাঁরা নিজ নিজ রাজধানীতে স্থায়ী কূটনৈতিক
মিশন খোলা, সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা, ভিসা
প্রক্রিয়া সহজ করা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ
বৃদ্ধি, নিজ নিজ বাণিজ্য পণ্যের সম্ভার প্রদর্শন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজতর করা
এবং পণ্য, শ্রম ও সেবার কার্যকর চলাচল নিশ্চিত করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন। তাঁরা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক যৌথ কার্যনির্বাহী গোষ্ঠী (জেডব্লিউসি) এবং সর্বোচ্চ
সংসদ ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান সংসদীয় মৈত্রী গোষ্ঠী
গঠনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।
৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতায় সমর্থনের জন্য মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাজিকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তান উভয়ই আঞ্চলিক ও
বৈশ্বিক সমন্বয় আরও গভীর করতে এবং জাতিসংঘ
ও ওআইসি-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে
পারস্পরিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করতে সম্মত হয়।
তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাবলি নিয়ে মতবিনিময় করেন। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার অনন্য কৌশলগত অবস্থানকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁরা বৃহত্তর আন্তঃআঞ্চলিক সংযোগের প্রসারের বিষয়ে আরও আলোচনা করেন। এসসিও-র সদস্যপদ লাভের
জন্য বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন জানিয়ে তাজিক মন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দেন।