• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী প্রদানকারী সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা গ্রেপ্তার স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ৫ আগস্ট কীভাবে আন্দোলনকারীদের কাছে ‘৩৬ জুলাই’ হয়ে উঠল শনির আখড়ায় ১০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ‘বিদেশি অতিথিদের সামনে নাস্তানাবুদ হওয়া আমাকে ব্যথিত করেছে’ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: প্রধানমন্ত্রী সিডনির মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: ইন্দোনেশীয় মুসলিম নারী নূরহায়াতি নিহত, বাংলাদেশি মাহবুবুল হক এখনও লাইফ সাপোর্টে অসুস্থ ইলিয়াস কাঞ্চন, কী হয়েছে তাঁর? দেশে ফিরলেন ১৫ মাস পর এমবাপ্পে কি আসছেন ঢাকায়? যা জানালেন প্রতিমন্ত্রী

এস আলম গ্রুপ পাচার করেছে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা, বিএফআইইউর চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা বড় ধরনের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। প্রতিবেদনে ‘এস গ্রুপ’ নামে একটি কেস স্টাডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দেশের ৭টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায় সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা ঋণের নামে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বিএফআইইউর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রতিবেদনে ‘এস গ্রুপ’ নামে উল্লেখ করা প্রতিষ্ঠানটি এস আলম গ্রুপ।

এস আলম গ্রুপ পাচার করেছে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা, বিএফআইইউর চাঞ্চল্যকর তথ্য

এস আলম গ্রুপ পাচার করেছে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা, বিএফআইইউর চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের নামে ব্যাংক থেকে অর্থ বের করে নেওয়া, হুন্ডি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়াল এবং বিভিন্ন কৌশলে চার দেশে অর্থ পাচারের ঘটনা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে একটি বড় ধরনের ব্যর্থতার উদাহরণ। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের তহবিলের অপব্যবহার, বন্ডের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, সরকারি পদের অপব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিএফআইইউ জানায়, ‘এস গ্রুপ’ রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ব্যাংকিং খাতে একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বসিয়ে ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলো থেকে নামে-বেনামে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা, বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য মাধ্যমে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএফআইইউ আরও বলেছে, এসব ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত নেওয়া হয়নি। ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ব্যাংকে থাকা বন্ধকি সম্পদের বাজারমূল্য ছিল মাত্র প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। সংস্থাটির মতে, ঋণ ঝুঁকি মূল্যায়ন ও ব্যাংকিং তদারকি ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এস আলম গ্রুপ পাচার করেছে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা, বিএফআইইউর চাঞ্চল্যকর তথ্য

এস আলম গ্রুপ পাচার করেছে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা, বিএফআইইউর চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থ জটিল মানি লন্ডারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। অর্থ স্থানান্তরে ট্রাস্ট অ্যাকাউন্ট, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং হুন্ডির মতো মাধ্যম ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে।

বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, পাচার করা অর্থে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সাইপ্রাস ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অফশোর অঞ্চলের সঙ্গেও গ্রুপটির যোগাযোগ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে এস আলম গ্রুপের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিএফআইইউ বলেছে, এই ঘটনা দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পদ্ধতিগত দুর্বলতা, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধে বড় চ্যালেঞ্জের দৃষ্টান্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category